উৎসব শেষের ক্লান্তি দূর করতে

restপহেলা বৈশাখ তো পার হয়ে গেলো হাসি গান আর আনন্দে, আর বাড়তি ছুটির দিনটাও সেই সাথে হাওয়ার ডানায় ভর করে উড়ে গেলো। কাল থেকে আবার সেই রুটিন বাধা জীবন। আবার সেই স্কুল, কলেজ, অফিসের দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু এই ক্লান্তি নিয়ে? সকালে ঘুম তো ভাঙতে চাইবেই না, উলটো ভীষণ আলসে লাগবে। মনে হবে ছুটিটা আরেক দিন বেশি হলে বেশ হতো, তাই না? কিন্তু কাজ তো করতেই হবে। উৎসব থাকবেই, তাই বলে তো জীবন থেমে থাকবে না। আগামীকাল যেন নতুন একটি দিন শুরু করতে পারেন আজকের দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে, সেই প্রসঙ্গেই দেয়া হলো কিছু পরামর্শ –

– সারাদিন এই গরমে শরীর থেকে কত পানিই না বেরিয়ে গেছে, সেই সাথে বের হয়ে গেছে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ। শরীরে পানি শুন্যতা দেখা দিলে ক্লান্ত লাগে, মাথা ঝিম ঝিম করে। খনিজ লবণের অভাব হলে সাথে বমি বমি ভাব হয়, ভীষণ খারাপ লাগতে থাকে। সুতরাং অবশ্যই বাসায় ফিরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। খুব ভালো হবে যদি একটি ওরস্যালাইন খেয়ে নিতে পারেন। ডাবের পানিও ভালো, তবে রাতের বেলা খাওয়া ঠিক নয়। পেট ফাঁপতে পারে।

– সারাদিন নিশ্চয়ই এটা ওটা অনেক কিছুই খাওয়া হয়েছে? বাসায় ফিরে দেখুন তো পাকস্থলীতে কোনও রকম অস্বস্তি লাগছে কিনা? যদি উত্তরটা হ্যাঁ হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

– শোবার আগে ভালো করে গোসল করে নিন। মেয়েরা মেকআপ তুলে নিন ভালো করে, ছেলেরাও মুখটা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। গোসল করলে দেখবেন ক্লান্তি অনেকটাই কমে যাবে। সম্ভব হলে গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। মাংস পেশির জড়তা কেটে আরাম পাবেন।

– সন্ধ্যা বেলায় বেশি খাওয়া হয়ে থাকলে রাতের বেলা খিদে না পেলে খাবেন না। বেশি খাওয়া অস্বস্তি তৈরি করবে পাকস্থলীতে।

– হাতে সময় থাকলে গোসলের আগে মাথায় তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। অনেকখানি দূর হবে ক্লান্তি।

– গোসলের পরেই চুলটা শুকিয়ে নিয়ে শুয়ে পরুন। একদিন টিভি না দেখলে বা ফেসবুকিং না করলে কিছু হবে না। আজকের রাতে আপনার বিশ্রাম জরুরি।

– ঘুম আসতে না চাইলে ঘর অন্ধকার করে শুয়ে থাকুন, দেখবেন কিছুক্ষণের মাঝেই ঘুম নেমে আসবে চোখে। স্নায়ু উত্তেজিত থাকলে অনেক সময় ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও ঘুম পায় না, কিছুক্ষণ আরাম করে শুয়ে থাকলেই শরীর ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে।

– একান্তই যদি রাতের বেলা অফিসের কাজ করতে হয়, তবে প্রথমে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে নিন। সম্ভব হলে আজ রাতে ঘুমিয়ে পরুন, সকালে তাড়াতাড়ি উঠে সেরে নিবেন। তরতাজা শরীর মনে কাজটাও ভালো হবে অনেক বেশি।

– সন্তান থাকলে তাদেরকেও আজ একটু আগেভাগেই ঘুম পাড়িয়ে দিন।

– কাল সকালে ভীষণ খারাপ লাগবে ঘুম থেকে উঠতে, তার চাইতেও বেশি খারাপ লাগবে দৈনন্দিন কাজে ফিরে যেতে। তাই রাতে শোবার সময় নিজেকে মনে মনে অটো সাজেশন দিয়ে রাখুন যে সকালে ঘুম ভেঙ্গে কাজে ফিরতে হবে। কর্মক্ষেত্র বা ক্যাম্পাসের মজার মজার ব্যাপার গুলো মনে করতে করতে ঘুমিয়ে যান। দেখবেন সকালে অন্য রকম একটা আগ্রহ জাগবে কাজের প্রতি।

– আজ রাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে কাল কিন্তু ভীষণ খারাপ লাগবে। শরীর তো খারাপ লাগবেই, মন মেজাজও ভালো লাগবে না। তাই যেভাবেই হক পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

– সম্ভব হলে সকালের কিছু কাজ রাতেই গুছিয়ে রাখুন। যেমন, পোশাক জুতো ইত্যাদি গুছিয়ে রাখুন। নাশতার জন্য রেডিমেড খাবার তৈরি রাখুন হাতের নাগালে। লাঞ্চে কি নিবেন, সেটিও মাথায় রাখুন। কাজ গুছিয়ে রাখলে সকালে মিলবে একটু বাড়তি সময়।

তাহলে আর কি, বিশ্রাম করুন সবাই। শুভরাত্রি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s